যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি এখনো ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) লক্ষ্যমাত্রার ওপরে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেলপ্রতি জ্বালানি তেলের দামও ছাড়িয়েছে ১০০ ডলারে। এমন পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফের সুদহার বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেড। চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ দায়িত্ব নেয়ার পর আজ প্রথমবারের মতো সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।
দুদিনের বৈঠক শেষে বুধবার ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বেলা ২টায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১২টা) নীতিগত সিদ্ধান্ত জানাবে ফেড। আর্থিক বাজারের পূর্বাভাস বলছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার এক-চতুর্থাংশ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়াতে পারে। এতে সুদহার ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে উঠবে। একই সঙ্গে সামনে আরো সুদহার বাড়ানোর ইঙ্গিতও দিতে পারে ফেড।
চেয়ারম্যান হিসেবে গত মে মাসে দায়িত্ব নেয়ার পর সুদহারের সম্ভাব্য গতিপথ নিয়ে কোনো আগাম নির্দেশনা দিতে চাননি ওয়ার্শ। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা ও মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
অনেকের মতে, সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ওয়ার্শকে রাজনৈতিকভাবেও চাপে ফেলতে পারে। কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়ার্শকে এ প্রত্যাশা থেকেই ফেডের চেয়ারম্যান করেছিলেন যে তিনি সুদহার কমাবেন।
সমালোচকদের মতে, এবার সুদের হার বাড়ালে ট্রাম্প কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে। সেখানে কংগ্রেসে নিজেদের অল্প ব্যবধানে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টা করবে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, আগামীকালের সিদ্ধান্তের সঙ্গে চলতি বছর আরো এক দফা সুদহার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিতে পারে ফেড।